মহাত্মা গান্ধীর শিক্ষাদর্শন: বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা

Authors

  • উজ্জল কুমার

Keywords:

শিক্ষাদর্শন, শিক্ষা, বুনিয়াদী শিক্ষা, আধ্যাত্মিক শিক্ষা, অহিংসা, আত্মউপলদ্ধি

Abstract

দর্শনের মূখ্য বিষয় হলো মানবীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা। শিক্ষা হলো উপায় যার সাহায্যে নানা
ধরনের মানবীয় সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়। তাই দার্শনিক সমস্যা সমাধানে শিক্ষা উপায় হিসেবে
বিবেচিত হতে পারে। শিক্ষাদার্শনিকগণ সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম, জ্ঞান, ক্সনতিকতা, ও পরিবেশ সকল কিছুর সাথে
সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের অন্যতম উপায় হিসেবে শিক্ষাকে বিবেচনা করেছেন। প্রচলিত
শিক্ষাদার্শনিকদের ন্যায় মহাত্মা গান্ধীও শিক্ষার মাধ্যমে মূর্ত ও বিমূর্ত মানবীয় সমস্যা সমাধান সূত্র
খুঁজেছেন। গান্ধীর ক্সনতিক দর্শনের প্রধান লক্ষ্য হলো চরিত্র গঠন। চরিত্র গঠন হলো একটি বিমূর্ত প্রত্যয়।
এইরূপ বিমূর্ত প্রত্যয়ের মূর্তায়ন সম্ভব হতে পারে সত্যবাদিতা, সহনশীলতা, বিনয়, ভালোবাসা, ইত্যাদি
মূল্যবোধগুলোকে জীবনে প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে। এই মূল্যবোধগুলি গান্ধী তাঁর বুনিয়াদী শিক্ষার মাধ্যমে
ব্যক্তিজীবনে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর সমাজ দর্শনের অন্যতম লক্ষ্য হলো ‘সর্বোদয়’ সমাজ গঠন।
‘সর্বোদয়’ সমাজ গঠনের অন্যতম উপায় ছিল কায়িক শ্রম দ্বারা চালিত শিক্ষা ব্যবস্থা। তাঁর রাজ‣নতিক
দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো ‘পূর্ণস্বরাজ’। এই লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রেও গান্ধীর ‘আত্মনির্ভর’ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে। কারণ তিনি কায়িক শ্রম দ্বারা চালিত শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী বা স্বাধীন করে
তুলতে চেয়েছিলেন। সর্বোপরি ব্যক্তির অধিবিদ্যক লক্ষ্যটিও তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে
অর্জন করতে চেয়েছিলেন। তাঁর কাছে জীবনের লক্ষ্য ও শিক্ষার লক্ষ্যের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না।
বর্তমান প্রবন্ধে মহাত্মা গান্ধীর শিক্ষাদর্শনের এই সকল দিক ব্যাখ্যা করা এবং বর্তমান সময়ে প্রচলিত
শিক্ষাপদ্ধতির সাথে তার শিক্ষাচিন্তার প্রাসঙ্গিকতা এবং গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

Downloads

Published

2023-10-16